আধিপত্য বিস্তার, মামলার রায় ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ — ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, দোকান ও মোটরসাইকেল; এলাকায় উত্তেজনা
নিউজ ডেস্ক:(মাগুরার কাগজ) ১০ নভেম্বর ২০২৫, ২৬ কার্তিক ১৪৩২
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার, মামলার রায় ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাড়িখালী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাড়িখালী গ্রামের মৃত হাবিবুর সরদারের ছেলে মোঃ তৈয়েবুর রহমানের বাড়ির সামনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসলেম বিশ্বাস গ্রুপের ৫০–৬০ জন এবং রবিউল মণ্ডল গ্রুপের ৪০–৫০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি দোকান, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
তৈয়েবুর সরদার জানান, আজি মোল্লা, বদিয়ার মোল্লা, রাকিব মোল্লা, হাসিব মোল্লা ও হাফিজ মোল্লার বিরুদ্ধে আবু সাঈদ মোল্লার দায়ের করা একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রায় ঘোষণার পর বিকেলে রাড়িখালী বাজারে বিডিআর সদস্য কবীর মীর (বর্তমানে যশোর বিডিআর ক্যাম্পে কর্মরত) এবং আজি মোল্লার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এসময় বাজারের সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্যরা উপস্থিত থেকে বিষয়টি মীমাংসা করে উভয় পক্ষকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তবে কিছুক্ষণ পরই বিডিআর সদস্য কবীর মীরের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা ফয়সাল সরদার ও তৈমুর সরদারের বাড়ি ও দোকানে হামলা চালায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা দোকান ভাঙচুর, লুটপাট ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সংঘর্ষে মোসলেম বিশ্বাস গ্রুপের বিডিআর সদস্য কবীর মীর, মোঃ বিল্লাল মীর, মোঃ নুরুল মোল্লা (৬৫), মোঃ সজিব মোল্লা (৩৫) এবং রবিউল মণ্ডল গ্রুপের মোঃ তৈয়েবুর সরদার, মোঃ মোহন মোল্লা, মোঃ বদিয়ার মোল্লা, রকিব মোল্লা, মোঃ হাসিব মোল্লা ও মফিজুর মোল্লা আহত হন।
আহতদের মধ্যে বদিয়ার মোল্লা, মফিজুর মোল্লা, মোহন মোল্লা, হাসিব মোল্লা ও রকিব মোল্লাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষে আহত বিডিআর সদস্য কবীর মীর বলেন, “জমি-জমা নিয়ে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয়। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম এবং কিছুটা আহতও হয়েছি। পরে কর্মস্থল যশোরে ফিরে গেছি।”
তবে স্থানীয়রা জানান, কবীর মীরকে পূর্বে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমেও অংশ নিতে দেখা গেছে। তার নেতৃত্বে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান যে, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে আহত পক্ষের মোঃ তৈয়েবুর সরদার জানিয়েছেন, তিনি হামলার ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন বিডিআর সদস্যের নেতৃত্বে এমন হামলা ও সংঘর্ষে জড়ানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মসলেম মোল্লা ও রবিউল মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
© All rights reserved © 2025 magurarkagoj.com