নিউজ ডেস্ক: ০৭ নভেম্বর ২০২৫( মাগুরার কাগজ)
মাগুরা জেলার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন—একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের ঘোষণা আসে ছয় বছর আগে। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি মাগুরা মেডিকেল কলেজ। সরকারি ঘোষণা হয়েছিল ২০১৯ সালে, কিন্তু এতদিনেও শুরু হয়নি স্থায়ী ভবনের নির্মাণকাজ। ফলে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চলছে পাঠদান ও চিকিৎসাসেবা, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রোগীদের জন্য তৈরি করেছে নানা ভোগান্তি।
মাগুরা মেডিকেল কলেজ বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের পাশে ১০০ শয্যার একটি ভবনে। একই স্থানে একদিকে রোগীদের চিকিৎসা, অন্যদিকে ক্লাস ও ল্যাব পরিচালিত হচ্ছে। এতে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি রোগীরাও পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত সেবা।
কলেজের অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান বলেন,
“স্থায়ী ভবন না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ চালাচ্ছেন। পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি ও হোস্টেল না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে মাগুরা শহরের পারল্লা এলাকায়, কিন্তু এখনো কোনো বাজেট ঘোষণা হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার মান ও চিকিৎসাসেবা দুটোই আরও সংকটে পড়বে।”
প্রশাসন সূত্র জানায়, মেডিকেল কলেজের স্থাপনের জন্য কয়েকটি স্থানের প্রস্তাবের পর পারল্লা এলাকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন সরকারের বাজেট অনুমোদন পেলেই নির্মাণকাজ শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছলেমান হোসেন বলেন,
“একটি মেডিকেল কলেজ এখানে শুধু উন্নত চিকিৎসা নয়, জেলার অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে। কিন্তু ঘোষণার ছয় বছর পরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আমরা হতাশ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ,স্বপ্নের মেডিকেল কলেজ কবে হবে বাস্তবে? ঘোষণার পর এত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে মাগুরার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধা থেকে।
দ্রুত স্থায়ী জায়গা নির্ধারণ করে নির্মাণকাজ শুরু করা হোক, যাতে বহু প্রতীক্ষিত মাগুরা মেডিকেল কলেজ আর কাগজে-কলমে না থেকে বাস্তবে রূপ নেয় মাগুরাবাসীর প্রত্যাশা।
© All rights reserved © 2025 magurarkagoj.com